সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির (বিএইউএসটি) শিক্ষার্থী মো. আবু তালহার (২৪) পরিচয় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যায় ৪ যাত্রী। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে ৪০ দিন পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশ।
এদিকে নিহত আবু তালহার মা মাহফুজা ফেরদৌসির দাবি পূরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মায়ের মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিহত আবু তালহার ছোট ভাই আবু তাসলামকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পুরো সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। আবু তাসলাম ফরিদপুর রাজেন্দ্র সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে অনার্সের শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত আবু তালহা সৈয়দপুরের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি) এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের টার্ম-১ এর (৫ম সেমিস্টার) শিক্ষার্থী ছিলেন। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. জিকরুল হক হলের ৩০৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।
তালহা রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলার মৃগি ইউনিয়নের পাংশা গ্রামের আবদুল হকের দ্বিতীয় পুত্র। ঘটনার দিন গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ওই শিক্ষার্থী ফরিদপুরের ভাড়া বাসা থেকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘চ’ নম্বর বগিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার ট্রেনে সে সৈয়দপুরে আসতো।
ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদাউস আহাম্মেদ বিশ্বাস জানান, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন পোড়া মরদেহ চারটি চেহারা দেখে শনাক্ত করার উপায় ছিল না। আদালতের আদেশক্রমে দাবিকৃত স্বজনদের ও পোড়া মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি ল্যাবে ক্রস ম্যাচিং করা হয়। তারপর লাশগুলো শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলো। তিনি জানান, আবু তালহার মরদেহ গ্রহণ করেন মামা মনিরুল ইসলাম।
আবু তালহার বাবা আব্দুল হক বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় আবু তালহার মরদেহ বহনকারী গাড়ীটা গ্রামের বাড়ীতে পৌছেছে। কাল শুক্রবার সকাল ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পাদন হবে। ভারাক্রান্ত কন্ঠে তিনি জানান, গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে ফরিদপুর স্টেশন থেকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন তালহা। ওই দিন রাত আনুমানিক নয়টার দিকে গোপীবাগে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একমাস ৯ দিন পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার মরদেহ পাওয়া গেল।
এদিকে তালহার নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা, এমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তালহাকে খুঁজে পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাকাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা রাকিবুল ইসলাম বলেন, নিহত আবু তালহার মায়ের মনের আকাঙ্ক্ষা ছিল ছেলেকে প্রকৌশলী বানাতে। আর সে লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি করায় ছেলেকে। মা মাহফুজা ফেরদৌসির সেই আশা পূরণে ছোট ছেলে আবু তাসলামকে ওই বিভাগে ভর্তি করে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাঁর পুরো সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করেছে। সে বর্তমানে আবাসিক হলে থেকে ক্লাস করছে।